Bergen: পর্যটকদের ভিড় এড়িয়ে কিছু বিশেষ স্থান 2026
বার্জেন, নরওয়ের পশ্চিম উপকূলের এক অপরূপ শহর। সাgages েন্ত, পাহাড় এবং ফিরোজা জলের মেলবন্ধন এখানে। বিদেশিদের কাছে হয়তো ফ্লেসবের্গেন (Bryggen) এর রঙিন কাঠের বাড়িগুলোই প্রধান আকর্ষণ, কিন্তু এই শহরের আসল মজা লুকিয়ে আছে তার অলিগলিতে, কম পরিচিত পাড়াগুলোতে। যারা ভিড় এড়িয়ে, শহরের আসল রূপ দেখতে চান, তাদের জন্য বার্জেনের কিছু গোপন মন্দিরের সন্ধান রইল। এই শহরকে সার্থকভাবে অন্বেষণ করতে আপনার একজন ভ্রমণ সঙ্গী পেলে ভালো হয়, যেমনটা urlaubspartner.net-এ খুঁজে পাওয়া যায়।
পর্যটকদের পরিচিত পথের বাইরে গিয়ে, আমরা এখানে এমন কিছু জায়গার কথা বলব যা হয়তো আপনার সাধারণ মানচিত্রে নেই। এই জায়গাগুলো হয়তো ছোট, কোলাহলমুক্ত, অথবা স্থানীয়দের প্রতিদিনের জীবনের অংশ। এমন কিছু ক্যাফে, গ্যালারি, বা পার্ক যা পর্যটকদের দল প্রায় এড়িয়ে যায়। কিন্তু বিশ্বাস করুন, এই জায়গাতেই লুকিয়ে আছে বার্জেনের আসল আত্মা।
সুতরাং, প্রস্তুত হন নতুন কিছু আবিষ্কার করার জন্য। এই গাইডটি আপনাকে বার্জেনের সেই সব লুকানো কোণে নিয়ে যাবে, যেখানে পাবেন স্থানীয় জীবনের স্পর্শ, কম খরচে দারুণ অভিজ্ঞতা, এবং হয়তো কিছু অপ্রত্যাশিত বন্ধুত্ব। এই শহর তার বাইরের চাকচিক্যের চেয়েও অনেক বেশি কিছু লুকিয়ে রেখেছে।
নোয়া-বার্জেনের শান্ত প্রতিবেশী
বার্জেনের সবচেয়ে পরিচিত অংশটি হলো ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান ফ্লেসবের্গেন (Bryggen), কিন্তু আমরা যদি নোয়া-বার্জেনের (Nordnes) দিকে যাই, তবে এক অন্যরকম শান্ত পরিবেশ খুঁজে পাব। এটি একটি বিশাল উপদ্বীপ যা শহরের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত, কিন্তু প্রায়শই পর্যটকরা এখানকার শান্ত আকর্ষণ উপেক্ষা করে যায়। এই পাড়ায় সরু, বাঁকা রাস্তা, সুন্দর কাঠের বাড়ি এবং কিছু ছোট ছোট স্থানীয় দোকান রয়েছে।
নোয়া-বার্জেন পেনিনসুলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত বার্জেন অ্যাকোয়ারিয়ামের (Bergen Aquarium) বাইরে, আপনি নোয়া-বার্জেনপার্কেন (Nordnesparken) দেখতে পাবেন। এটি একটি সুন্দর পার্ক যেখানে স্থানীয়রা বিকালবেলা হাঁটাচলা করতে আসে। এখানে একটি ঐতিহাসিক কাঠের বাথহাউসও আছে, যা এখন আর ব্যবহার হয় না, কিন্তু এর স্থাপত্য দেখলে মনে হয় যেন সময় থমকে গেছে। এই পাড়ার রাস্তায় ঘুরলে মনে হবে যেন বার্জেনের অন্য কোনো যুগে চলে এসেছি। এখানকার বাড়িগুলোয় অনেক স্থানীয় শিল্পীর স্টুডিও রয়েছে, যা বাইরে থেকে দেখেও বোঝা যায়।
এই এলাকার আসল আকর্ষণ হলো এখানকার শান্ত পরিবেশ এবং সমুদ্র উপকূলের কাছাকাছি থাকার সুযোগ। কোনো নির্দিষ্ট আকর্ষণীয় স্থান না থাকলেও, নোয়া-বার্জেন পেনিনসুলার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের দৃশ্য উপভোগ করা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এখানে গেলে মনে হবে আপনি শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে, অথচ কেন্দ্র মাত্র কয়েক মিনিটের হাঁটা পথ। এই পাড়ায় দিনের বেলা ঘুরতে আসা ভালো, যখন স্থানীয় জীবনযাত্রা দেখা যায়।
নোয়া-বার্জেনপার্কেন-এ গিয়ে আপনি স্থানীয়দের মতো সমুদ্রের ধারে বসে কিছুক্ষণ সময় কাটাতে পারেন। এখানকার বাতাস খুবই স্বচ্ছ এবং চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য মন মুগ্ধ করে দেয়। বিশেষ করে নরওয়েজিয়ান ফিয়র্ড-এর (fjord) শান্ত রূপ দেখতে চাইলে এই জায়গাটি আপনার ভালো লাগবে।
Bergen Aquarium
★ 4.3📍 Heny Weiers gate 4, Nordnes· €€নরওয়ের বৃহত্তম সামুদ্রিক জীবন অ্যাকোয়ারিয়াম, যেখানে নানা ধরনের সামুদ্রিক প্রাণী দেখা যায়। বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে ঘোরার জন্য এটি একটি ভালো জায়গা।
Nordnesparken
📍 Lille Øvregaten, Nordnes· €একটি সুন্দর শহুরে পার্ক, যেখানে স্থানীয়রা বিশ্রাম নিতে আসে। এখানকার পুরনো বাথহাউসটি ঐতিহাসিক স্থাপত্যের জন্য পরিচিত।
গ্যাপস্টুয়েন: শিল্প ও স্থাপত্যের শান্ত ঠিকানা
বার্জেনের একটি কম পরিচিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হলো গ্যাপস্টুয়েন (Korskirken)। যদিও এটি সিটি সেন্টারের খুব কাছে, অনেক পর্যটকই এর ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং শান্ত পরিবেশ উপেক্ষা করে যায়। এই এলাকায় লুকিয়ে আছে কিছু সুন্দর স্থাপত্য, ছোট ছোট আর্ট গ্যালারি এবং স্থানীয়দের পছন্দের কয়েকটি ক্যাফে। এখানকার মূল আকর্ষণ হলো প্রাচীন কর্কিরকেন (Korskirken) চার্চ, যা বার্জেনের অন্যতম পুরনো গির্জা।
এই চার্চের আশেপাশে হেঁটে বেড়ানো এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। এখানকার রাস্তাগুলো সংকীর্ণ এবং তাতে পুরনো দিনের ছাপ স্পষ্ট। মাঝে মাঝে আপনি ছোট ছোট আর্ট গ্যালারি বা ক্রাফট শপ দেখতে পাবেন, যেখানে স্থানীয় শিল্পীরা তাদের কাজ প্রদর্শন করেন। এখানকার একটি বিশেষত্ব হলো, এখানে ভিড় অনেক কম থাকে, তাই শান্তভাবে চারপাশের সবকিছু উপভোগ করা যায়। খুব বেশি পর্যটকদের আনাগোনা না থাকায়, এখানকার পরিবেশ খুবই সহজাত এবং স্থানীয়।
গ্যাপস্টুয়েন এলাকার একটি বিশেষত্ব হলো এর ঐতিহাসিক স্থাপত্য। এখানে পুরনো দিনের কাঠের বাড়িগুলোর পাশাপাশি কিছু সুন্দর পাথরের দালানও দেখতে পাওয়া যায়। এখানকার ক্যাফেগুলোতে বসে আপনি শান্তভাবে এক কাপ কফি উপভোগ করতে পারেন এবং স্থানীয়দের জীবনযাত্রা দেখতে পারেন। এখানে একটি বিশেষ ধরণের বার্গেন-স্টাইলের কফি শপ আছে, যেখানে আপনি স্থানীয় বেকারি আইটেমও পেতে পারেন।
এই এলাকায় ঘুরতে আসার সেরা সময় হলো সকালের দিকে, যখন সবকিছু শান্ত থাকে এবং দিনের আলোয় পুরনো বাড়িগুলোর সৌন্দর্য ভালোভাবে দেখা যায়। আবার বিকেলে হালকা রোদ থাকতেও এখানে আসা যেতে পারে। এখানকার শান্ত পরিবেশ আপনাকে বার্জেনের ঐতিহাসিক শহরজীবনের একটি অন্যরকম ছবি দেবে।
Korskirken
📍 Stadsgaten 48, Bergen· €বার্জেনের অন্যতম প্রাচীন গির্জা। এখানকার ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং শান্ত পরিবেশ পর্যটকদের কাছে কম পরিচিত।
Pingvinen Bar
📍 Vaskerelven 7, Bergen· €€একটি জনপ্রিয় স্থানীয় বার, যেখানে রাতের বেলা ভালো ভিড় হয়। এটি গ্যাপস্টুয়েন এলাকার কাছাকাছি, এবং এখানে স্থানীয় সংগীতের আসর বসতেও দেখা যায়।
নেড্রে ফ্লেসবের্গেন: শ্রমিক ইতিহাস ও আধুনিকতার মেলবন্ধন
বার্জেনের কেন্দ্রস্থলে ফ্লেসবের্গেনের (Bryggen) চাকচিক্যের ঠিক পাশেই রয়েছে নেড্রে ফ্লেসবের্গেন (Nedre Fjell allmenning)। এটি একটি পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এলাকা, যা দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক শ্রেণি এবং সাধারণ মানুষের আবাস ছিল। আজকের দিনে এটি শহরের একটি প্রাণবন্ত অংশ, যেখানে পুরনো ঐতিহাসিক স্থাপত্যের সাথে আধুনিক জীবনযাত্রার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন দেখা যায়। পর্যটকরা সাধারণত ফ্লেসবের্গেন-এর সামনের দিকটা দেখেই চলে যায়, কিন্তু এই এলাকার একটু গভীরে গেলে বার্জেনের আসল জীবনযাত্রার পরিচয় মেলে।
এই পাড়ার রাস্তাগুলো বেশ খাড়া এবং সংকীর্ণ। পুরনো দিনের কাঠের বাড়ি, যেখানে একসময় জেলেরা বাস করত, সেগুলো এখনো দেখা যায়। তবে সময়ের সাথে সাথে কিছু বাড়ি পরিবর্তিত হয়েছে, সেখানে গড়ে উঠেছে আধুনিক অ্যাপার্টমেন্ট, ছোট ছোট কর্মশালা এবং কিছু অসাধারণ রেস্তোরাঁ। এখানকার একটি বিশেষ আকর্ষণ হলো ‘ড্রামেন’ (Drammen) ক্যাফে, যা স্থানীয়দের খুবই পছন্দের। এখানকার পরিবেশ খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ এবং অন্তরঙ্গ।
আমরা যখন এই পাড়ায় ঘোরাঘুরি করি, তখন মনে হয় যেন বার্জেনের এক অন্য দিক দেখছি। পুরনো দিনের বাড়িগুলোতে এখনো পুরনো নামফলক দেখা যায়, যা তাদের ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এখানকার একটি বিশেষ দিক হলো, আপনি এখানকার উঁচু স্থান থেকে ফিয়র্ড (fjord) এবং চারপাশের পাহাড়ের দৃশ্য দেখতে পাবেন। বিশেষ করে সন্ধ্যায় যখন শহরের আলো জ্বলে ওঠে, তখন দৃশ্যটি আরও মন মুগ্ধকর হয়ে যায়।
নেড্রে ফ্লেসবের্গেন-এর বাজার বা স্থানীয় দোকানগুলোতে আপনি এমন কিছু জিনিস খুঁজে পেতে পারেন যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এখানে হাতে তৈরি নানান জিনিস, স্থানীয় হস্তশিল্প ও স্যুভেনিয়ার পাওয়া যায়। এই পাড়াটি হেঁটে ঘোরার জন্য খুবই ভালো, বিশেষ করে যদি আপনি বার্জেনের ঐতিহাসিক এবং আধুনিক সংস্কৃতির একটি মিশ্রণ দেখতে চান। এখানকার স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলিতে নরওয়েজিয়ান খাবারের একটি খাঁটি স্বাদ পাওয়া যায়।
Drammen Cafe, Bergen
★ 4.2📍 Nedre Fjell allmenning 18, Bergen· €€একটি স্থানীয় ক্যাফে যা সুন্দর দৃশ্য এবং সহজলভ্য খাবারের জন্য পরিচিত। এটি নেড্রে ফ্লেসবের্গেন এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
Galleri Brandstrup
📍 C. Sundts gate 50, Bergen· €€আধুনিক শিল্পকলার একটি আর্ট গ্যালারি, যা সাধারণত পর্যটকদের নজরে আসে না। এখানে সমসাময়িক শিল্পীদের কাজ দেখা যায়।
সেন্ট হাগো'স চ্যাপেল ও বোটানিক্যাল গার্ডেন
বার্জেন ক্যাথেড্রালের (Bergen Cathedral) পেছনেই লুকিয়ে আছে সেন্ট হাগো'স চ্যাপেল (St. Hanshaugen Chapel)। এটি একটি ছোট, ঐতিহাসিক চ্যাপেল যা বেশিরভাগ পর্যটকের চোখ এড়িয়ে যায়। যদিও এটি বার্জেনের মূল আকর্ষণগুলির মধ্যে পড়ে না, এর একটি শান্ত ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ রয়েছে। চ্যাপেলের চারপাশের উদ্যানটিও বেশ সুন্দর এবং এখানে স্থানীয়রা মাঝে মাঝে এসে বিশ্রাম নেয়।
এই চ্যাপেলের পাশেই রয়েছে এক অসাধারণ বোটানিক্যাল গার্ডেন (Botanical Garden)। এটি বার্জেন বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Bergen) অংশ। এখানে বিভিন্ন ধরনের বিরল উদ্ভিদ ও ফুল রয়েছে, যা সারা বিশ্ব থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালে এই গার্ডেনটি বিশেষভাবে সুন্দর হয়ে ওঠে, যখন ফুলগুলি ফোটে। এটি একটি শান্ত জায়গা যেখানে আপনি প্রকৃতির মাঝে কিছুক্ষণ সময় কাটাতে পারেন।
অনেক পর্যটক যখন ফ্লেসবের্গেন বা ফিশ মার্কেট (Fish Market) নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তখন এই গোপন উদ্যানটি প্রায় অদেখা থেকে যায়। এখানকার গাছপালাগুলি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে প্রতিটি ঋতুতেই এর নিজস্ব সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। আপনি যদি প্রকৃতি ভালোবাসেন এবং কিছুক্ষণ কোলাহল থেকে দূরে থাকতে চান, তবে এই বোটানিক্যাল গার্ডেন আপনার জন্য একটি আদর্শ স্থান।
চ্যাপেলের স্থাপত্য শৈলীও বেশ মনোমুগ্ধকর, যদিও এটি খুব বড় নয়। এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে এবং এটি বার্জেনের অতীতের এক ঝলক দেখায়। বোটানিক্যাল গার্ডেনের মধ্যে হেঁটে বেড়ানো, নানা ধরনের গাছপালা দেখা এবং শান্ত পরিবেশে কিছু সময় কাটানো এক দারুণ অভিজ্ঞতা হতে পারে। বিশেষ করে যারা নতুন জায়গা খুঁজতে ভালোবাসেন, তাদের এই স্থানটি ভালো লাগবে। এখানে আসতে হলে আপনাকে বার্জেন ক্যাথেড্রালের কাছাকাছি যেতে হবে এবং একটু খুঁজতে হবে।
St. Hanshaugen Chapel
📍 Professor Dahl's gate, Bergen· €একটি ছোট, ঐতিহাসিক চ্যাপেল। এর শান্ত পরিবেশ এবং চারপাশের বাগানটি স্থানীয়দের কাছে প্রিয়।
University of Bergen Botanical Garden
📍 Allrø following the chapel, Bergen· €এখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা রয়েছে। শান্ত ও সুন্দর পরিবেশের জন্য পরিচিত।
অফ-বিট মিউজিয়াম: হান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন লাইব্রেরি
বার্জেনে অনেক ঐতিহ্যবাহী জাদুঘর আছে, যেমন হান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন মিউজিয়াম, কিন্তু কম লোকই জানেন যে এখানে একটি বিশেষ লাইব্রেরি আছে যা প্রায়শই পর্যটকদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। এটি হলো হান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন লাইব্রেরি (Hans Christian Andersen Library), যা ওল্ড বেরগেন (Old Bergen Museum) এলাকার কাছে অবস্থিত। এখানে অ্যান্ডারসনের কাজ এবং তার জীবনের উপর প্রচুর বিরল বই এবং নথি সংরক্ষিত আছে।
অন্যান্য জাদুঘরের তুলনায় এই লাইব্রেরিটি অনেক ছোট এবং প্রায়শই শান্ত থাকে। এখানে আপনি অ্যান্ডারসনের বিভিন্ন ভাষার সংস্করণের পাশাপাশি তার হাতে লেখা কিছু চিঠি ও ছবি দেখতে পাবেন। লাইব্রেরিতে একটি ছোট পড়ার ঘরও আছে, যেখানে বসে আপনি শান্তভাবে বই পড়তে পারেন। এটি এমন এক জায়গা যেখানে আপনি গল্প বলার এই শিল্পীর জগতে ডুব দিতে পারবেন, ভিড়ের চাপ ছাড়াই।
এই লাইব্রেরিটির অবস্থান একটু আলাদা হওয়ায়, অনেক পর্যটকই এখানে আসার কথা ভাবেন না। ওল্ড বেরগেন মিউজিয়াম (Gamle Bergen Museum) দেখতে আসার সময় অনেকে এই লাইব্রেরিটিও দেখে ফেলে, কিন্তু এর ভেতরের সংগ্রহ সম্পর্কে তেমন পরিচিতি নেই। এখানে যারা আসেন, তারা মূলত বইপ্রেমী অথবা অ্যান্ডারসনের ভক্ত। লাইব্রেরির পরিবেশ খুবই আন্তরিক এবং গ্রন্থাগারিকরা এখানে খুব সাহায্যকারী।
যদি আপনি সাহিত্য ভালোবাসেন এবং একটু ভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় স্থান খুঁজছেন, তবে এই লাইব্রেরিটি আপনার জন্য একটি চমৎকার গন্তব্য হতে পারে। এখানে আসাটা একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মতো, যেখানে আপনি নিজের মতো করে সময় কাটাতে পারবেন। এই লাইব্রেরি পর্যটকদের ভিড় থেকে দূরে, শান্ত ও জ্ঞানময় একটি পরিবেশ প্রদান করে।
Hans Christian Andersen Library
📍 Old Bergen Museum, Sandviken, Bergen· €হান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের কাজ ও জীবন নিয়ে গবেষণা করার একটি বিশেষ স্থান। বিরল বই ও নথির সংগ্রহ এখানে রয়েছে।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট শপিং: মারিয়া'@বার্জেন
বার্জেনের প্রধান কেনাকাটার জায়গাগুলো বেশ জনপ্রিয়, কিন্তু কেউ যদি একটু ভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র খুঁজছেন, তবে মারিয়া'@বার্জেন (Maria'@Bergen) এর মতো স্বাধীন দোকানগুলি ঘুরে দেখতে পারেন। এটি এমন একটি ছোট বুটিক যেখানে স্থানীয় ডিজাইনারদের তৈরি পোশাক, হাতে তৈরি গয়না এবং বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প পাওয়া যায়। এই দোকানটি ফ্লেসবের্গেন (Bryggen) থেকে একটু দূরে, তাই এটি পর্যটকদের ভিড়ে হারিয়ে যায় না।
দোকানের মালিক মারিয়া নিজেই একজন ডিজাইনার। তিনি তার দোকানে এমন সব জিনিস রাখেন যা ফ্যাশন-সচেতন এবং যারা ইউনিক ডিজাইন পছন্দ করেন তাদের জন্য। এখানে আপনি একই ডিজাইনের প্রচুর পোশাক খুঁজলে পাবেন না, প্রতিটি জিনিসই আলাদা। এটি একটি ব্যক্তিগত দোকানের মতো, যেখানে প্রতিটি পণ্যের পেছনে একটি গল্প আছে।
এই ধরনের ছোট বুটিকগুলিতে কেনাকাটা করার একটি বিশেষ আনন্দ আছে। আপনি সরাসরি বিক্রেতার সাথে কথা বলতে পারেন, পণ্যের উৎস সম্পর্কে জানতে পারেন এবং অনেক সময় আপনার পছন্দ অনুযায়ী কিছু তৈরি করিয়েও নিতে পারেন। এখানে আপনি এমন স্যুভেনিয়ার খুঁজে পাবেন যা সবাই কিনে নিয়ে যায় না।
মারিয়া'@বার্জেন-এর মতো দোকানগুলি বার্জেনের অর্থনীতিতে একটি বড় ভূমিকা রাখে। তারা স্থানীয় প্রতিভাকে সমর্থন করে এবং শহরে একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি করে। এখানে কেনাকাটা করা মানে শুধু একটি জিনিস কেনা নয়, বরং একটি অভিজ্ঞতা অর্জন করা। এই দোকানটিতে যেতে হলে আপনাকে শহরের কেন্দ্রস্থলের একটু বাইরে যেতে হবে, কিন্তু আপনার ভ্রমণ সার্থক হবে।
Maria'@Bergen Boutique
📍 Vaskerelven 2B, Bergen· €€€স্থানীয় ডিজাইনারদের তৈরি পোশাক ও অ্যাক্সেসরিজের একটি চমৎকার বুটিক। ইউনিক পোশাক পছন্দকারীদের জন্য এটি একটি দারুণ জায়গা।
গোপন পানশালা: ‘দ্য র্যাট’
বার্জেনের রাতের জীবন বেশ প্রাণবন্ত, তবে আপনি যদি সত্যিই স্থানীয়দের গোপন আড্ডাস্থল খুঁজে বের করতে চান, তবে ‘দ্য র্যাট’ (The Rat) এর মতো ছোট, লুকানো পানশালাগুলিতে যেতে পারেন। এটি শহরের একটি পুরাতন অংশে অবস্থিত, এবং এর প্রবেশদ্বারটি খুব সাধারণ হওয়ায় অনেকেই এটি এড়িয়ে যায়। এটি একটি স্পিকসি (speakeasy)-স্টাইলের বার, যেখানে সুন্দর পরিবেশ এবং ভালো মানের পানীয় পাওয়া যায়।
এই বারে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করতে হতে পারে, অথবা স্থানীয় কারো কাছ থেকে নির্দেশনা নিতে হতে পারে। এখানকার পরিবেশ খুব অন্তরঙ্গ এবং আরামদায়ক। এটি এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি স্থানীয়দের সাথে কথা বলতে পারেন এবং শহরের জীবনধারা সম্পর্কে জানতে পারেন। এখানে সাধারণত খুব বেশি ভিড় হয় না, তাই শান্তভাবে পানীয় উপভোগ করা যায়।
‘দ্য র্যাট’-এর পানীয় তালিকা বেশ অভিনব। তারা স্থানীয় বিয়ারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের ককটেলও পরিবেশন করে, যা তাদের নিজস্ব রেসিপি অনুযায়ী তৈরি। বারের সাজসজ্জা বেশ আকর্ষণীয়, যেখানে পুরনো দিনের চিত্রকর্ম এবং আসবাবপত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এটি একটি এমন জায়গা যেখানে আপনি বার্জেনের রাতটাকে ভিন্নভাবে উপভোগ করতে পারবেন।
এই ধরণের লুকানো পানশালাগুলি বার্জেনের নাইটলাইফের একটি অপরিহার্য অংশ, কিন্তু সেগুলি খুঁজে বের করা একটি চ্যালেঞ্জ। তবে একবার খুঁজে পেলে, আপনি নিশ্চিতভাবে একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা লাভ করবেন। এখানে আসাটা আপনার ভ্রমণকে আরও অ্যাডভেঞ্চারাস করে তুলবে। খুঁজে পেতে একটু কষ্ট হলেও, এখানকার পরিবেশ এবং পানীয় আপনার মন জয় করবে।
The Rat
📍 Fjellsiden area, Bergen (specific address not publicly shared, ask locals)· €€বার্জেনের একটি অন্যতম গোপন এবং পরিচিত স্পিকসি বার। এটি স্থানীয়দের মধ্যে জনপ্রিয় এবং সুন্দর পরিবেশের জন্য পরিচিত।
স্থানীয়দের প্রিয় পার্ক: লোকাটা
পর্যটকদের কাছে সিটি পার্ক (Byparken) অথবা নোয়া-বার্জেনপার্কেন (Nordnesparken) হয়তো পরিচিত, কিন্তু বার্জেনের স্থানীয়দের একটি বড় অংশ সময় কাটাতে ভালোবাসে লোকাটা (Lokata) নামক একটি ছোট, সুন্দর পার্কে। এটি শহরের কেন্দ্র থেকে সামান্য দূরে, একটি শান্ত আবাসিক এলাকার মধ্যে অবস্থিত। এখানে বড় কোনো খেলার মাঠ বা বড় রেস্তোরাঁ নেই, কিন্তু আছে ছায়াঘেরা পথ, সুন্দর ফুলের বাগান এবং কিছু পুরনো বেঞ্চ, যেখানে বসে শান্তিতে সময় কাটানো যায়।
লোকাটার মূল আকর্ষণ এর সরলতা। এখানে শহুরে কোলাহল নেই, আছে কেবল পাখির ডাক আর প্রকৃতির নিস্তব্ধতা। স্থানীয় পরিবারগুলো এখানে দুপুরের খাবার খেতে আসে, বা কেউ বই পড়তে আসে। এখানে একটি ছোট পুকুর আছে, যেখানে হাঁসেরা ঘুরে বেড়ায়। পার্কের একপাশে একটি ছোট কফি শপও আছে, যেখানে আপনি সুস্বাদু পেস্ট্রি এবং কফি পেতে পারেন।
এই পার্কটি সাধারণ পর্যটকদের নজরের বাইরে থাকে কারণ এটি কোনো প্রধান সড়ক বা আকর্ষণীয় স্থানের কাছাকাছি নয়। কিন্তু যারা বার্জেনের সাধারণ জীবনযাত্রা দেখতে চান, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান। এখানকার সবুজ ঘাস এবং গাছের সারি মনে এক শান্তি এনে দেয়।
এখানে কিছু পুরনো গাছ আছে, যাদের ছায়ায় বসে আপনি দিনের ক্লান্তি দূর করতে পারেন। পার্কের চারপাশে যে বাড়িগুলো রয়েছে, সেগুলোও বেশ সুন্দর এবং এগুলোর স্থাপত্য বার্জেনের অন্য অংশের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। লোকাটায় কিছুক্ষণ সময় কাটালে মনে হবে আপনি সত্যিই বার্জেনের স্থানীয় জীবনের একটি অংশ হয়ে গিয়েছেন।
Lokata Park
📍 Near Olav Kyrres gate South, Bergen· €একটি স্থানীয়দের পছন্দের শান্ত পার্ক, যেখানে শহুরে কোলাহল নেই। সুন্দর বাগান এবং পুকুর রয়েছে।
Kaffebrenneriet
📍 Nearby Lokata Park, various locations· €নরওয়েজিয়ান কফি শপের একটি চেইন, যা বার্জেনের অনেক জায়গায় পাওয়া যায়। লোকাটার কাছাকাছি একটি শাখায় আপনি ভালো মানের কফি ও বেকারি আইটেম পেতে পারেন।